
আজকের বিশ্ব অর্থনীতি মূলত নব্য পুঁজিবাদ এবং নব্যউপনিবেশবাদের দ্বারা পরিচালিত। নব্য পুঁজিবাদ মূলত মুনাফা সর্বাধিক করার দিকে মনোযোগ দেয়, অনেক সময় ন্যায্যতা, সামাজিক কল্যাণ বা পরিবেশের বিষয়ে কম ভাবা হয়। নব্যউপনিবেশবাদ ঘটে যখন শক্তিশালী দেশ বা বহুজাতিক কোম্পানি দুর্বল দেশের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে সেই দেশের মানুষ দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হয়।
এই ব্যবস্থাগুলো নতুন উদ্ভাবন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা অনেক সময় বৈষম্য, সামাজিক অন্যায় এবং নৈতিক সমস্যাও তৈরি করে। মানবিক কল্যাণ, নৈতিক দায়িত্ববোধ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এরা পূর্ণাঙ্গ সমাধান দিতে পারে না। ইসলাম এই সমস্যাগুলোর সমাধান দেয়। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বলে, দুর্বলদের সুরক্ষা ও সহায়তার আহ্বান জানায় এবং জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বিতরণের ব্যবস্থা করে। এটি শোষণ সীমিত করে, অতিরিক্ত ক্ষমতা বা সম্পদের সঞ্চয়কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সম্প্রদায়ের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করে।
ন্যায়, সামাজিক ভারসাম্য এবং নৈতিক দিকগুলোকে সমন্বিত করে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে যা মানবিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো পূরণ করে। এটি কেবল সমস্যা সমাধান করে না, বরং ব্যক্তিবিশেষ ও সমাজকে ন্যায়, সমতা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার পথে পরিচালিত করে।