
মানুষ সভ্যতা গড়ে তোলার শুরু থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা ও মতবাদ তৈরি করেছে—যাতে সমাজ চলতে পারে, শৃঙ্খলা থাকে এবং মানুষ ন্যায্যভাবে বাঁচতে পারে। এই চিন্তা থেকেই ক্যাপিটালিজম, সোশ্যালিজম, সেক্যুলারিজম, ন্যাশনালিজমের মতো মানবিক আদর্শের জন্ম হয়েছে। প্রতিটি আদর্শই মানুষের সমস্যার সমাধান দেওয়ার দাবি করেছে।
কিন্তু ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা আমাদের দেখায়—এই মানুষ তৈরি করা ব্যবস্থাগুলো কখনোই পুরোপুরি সফল হয়নি। কোথাও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে, কোথাও ক্ষমতা অল্প কিছু মানুষের হাতে চলে গেছে, আবার কোথাও মানুষের নৈতিক ও সামাজিক স্থিতি নষ্ট হয়েছে। একেকটি ব্যবস্থা কিছু সমস্যার সমাধান দিলেও নতুন সমস্যা তৈরি করেছে।
এই ব্যর্থতাগুলো শুধু খারাপ শাসক বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে হয়নি। মূল সমস্যা হলো—মানুষের নিজস্ব বুদ্ধি ও চিন্তার সীমাবদ্ধতা। মানুষ সাধারণত তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা তৈরি করে, কিন্তু জীবনের গভীর প্রশ্ন—ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও জীবনের উদ্দেশ্য—এসব বিষয় অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়।
এখানেই ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি একটি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলাম মানুষ তৈরি কোনো সাময়িক প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক ও জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও ক্ষমতার ব্যবহার—সবকিছুর জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রদান করে।
ইসলাম কেবল সমস্যার প্রতিক্রিয়া দেয় না; বরং সমস্যার উৎসকে লক্ষ্য করে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক সীমারেখা নির্ধারণ করে। ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়—যখন এই নীতিগুলো অনুসরণ করা হয়েছে, তখন সমাজে ভারসাম্য, নৈতিক স্থিতি এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষা পেয়েছে।
এই বিশ্লেষণ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি করে—মানুষের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে তৈরি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে, কি এমন কোনো দিকনির্দেশনা প্রয়োজন নয়, যা মানুষের প্রকৃতি ও বাস্তবতাকে একসাথে বিবেচনায় নেয়? ইসলাম সেই দিকনির্দেশনাকেই একটি সুসংহত ও স্থায়ী সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করে।